যারা নিজেদের জীবনকে নরক বানিয়ে ফেলেছে, তারাই কেবল স্বর্গে যাবার স্বপ্ন দেখে। আমি শুধু এখানে বসে থেকেই ভরপুর আনন্দে আছি পুরোপরি। আমার চোখের দিকে তাকাও মনে হবে নেশা করে আছি। কখনো নেশা বস্তু ছুয়ে দেখি নি। কিন্তু এটাই হলো পৃথিবীর জটিল ক্যামিক্যাল ফেকটরী। শুধু প্রশ্ন হলো তুমি এই ফেক্টরীর ভাল সি.ই.ও নাকি জঘন্ন সি.ই.ও। যদি ভাল সি.ই.ও হতে তাহলে সারাক্ষন আনন্দে রাখতে, খারাপ সি.ই. হলে ভুল কেমেষ্ট্রি তৈরী করে ভাববে এটা, ঐটা, সেটার জন্য হচ্ছে। তো নানা ভাবে মানুষ যখন কষ্ট পায়, তখন তাদের ক্যামিক্যাল ফেক্টরী তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী চলছে না। এটাকে কেউ বলে দু:খ, যন্ত্রনা, কেউ বলে অবসাদ। নিজের ভীতরে নারকীয় অনুভূতি হলে তখনই আমরা ভাবতে শুরু করি যখন উপরে যাব সব কিছু সুন্দর হয়ে যাবে, মানে আনন্দ। স্বর্গে যাবার যোগ্যতা হলো মরতে হবে এবং তোমার পরম্পরা অনুযায়ী তোমাকে কবর দেয়া হবে, নাকি পুড়িয়ে ফেলা হবে, বা কেটে কুটে পাখিদের সামনে ফেলে দেব এর যে কোন একটি হবে তোমার সংস্কার অনুযায়ী। তবে একটি বিষয় পরিস্কার তোমার দেহটা পৃথিবীতে ফিরে আসছে, এবং যথেষ্ট ইকো-ফ্রেন্ডলী কাজ এখন তুমি দেহ ছেড়ে স্বর্গে চলে গেছ, তো স্বর্গে কি আছে? হিন্দু স্বর্গে খাবার খুব সুস্বাদু, অন্য স্বর্গে যাও সাদা গাউন পরা মহিলারা সাদা মেঘে ভাসছে, যদি অন্য একটি স্বর্গে যাও কুমারীত্বের সমস্যা আছে , যদি সে রকম চাও সেখানে যেতে পার কিন্তু তুমি তো তোমার শরীর ছাড়াই সেখানে যাচ্ছ। তাহলে ভাল খাবার, সুন্দরী কুমারী নিয়ে করবেটা কি? তোমার তো শরীর নেই, আর এসব তো শরীরের সমস্যা। হিন্দু জীবনশৈলী মতে বলা হয় স্বর্গে একটি অক্ষয় পাত্র আছে তাথেকে যত খাও না কেন পাত্রটি পূর্নই থাকে। সেখানে যাচ্ছ শরীর ছাড়াই খাবারের পাত্র সব সময় পূর্ণ থাকবেই। আর ওরাও কুমারীই থেকে যাবে। তো বহুদিন থেকে আমরা এটা করে আসছি। সেটা অত্যন্ত সহজ রাস্তা ছিল, মানুষদের ম্যানেজ করার জন্য পদ্ধতি। দু:খে আছ যখন ওখানে যাবে সব ঠিক হয়ে যাবে, স্বান্তনা দেয়া। এটা যদি কোন মন:চিকিৎসকের কথা হয় সেটা ঠিক আছে, কিন্তু তুমি তাদের বিশ্বাস করাচ্ছ যে, উপরে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। এখানে জীবনটা বিগড়ে ফেল। এটা কিন্তু ঠিক নয়, হয়ত কেউ গভীর দু:খে আছে, চিন্তা কর না ওখানে ভগবানের কলে উঠলে সব ঠিক হয়ে যাবে। এটা তো মন:স্তাত্বিক উপায় তখন ঠিক আছে। যখন কেউ গভীর দু:খে থাকে। এটাকে ব্রান্ড বানিয়ে সব জায়গায় বেচতে যেয়ো না। হিতে বিপরীত হয়। তো স্বর্গের ধারনাটা ক্রমশ ভেঙ্গে পড়ছে, সারা পৃথিবী জুড়ে এলকোহল ও ড্রাগের নেশা ক্রমশ বাড়ছে এটাই তার কারন, হয়ত প্রকাশ করতে পারছে না, স্বর্গের ধারনা ক্রমশ ভেঙ্গে পড়ছে। তোমাদের মধ্যে কজন ভাব যেদিন আমি স্বর্গে যাব সবকিছু সুন্দর হয়ে যাবে। খুব বেশী নয় নিশ্চয়, কিন্তু আগের বা তার আগের প্রজন্মকে দেখ এমন ভাবনা ভাবত অসংখ্য মানুষ, সুতরাং স্বর্গের ধারনা ভেঙ্গে পড়ছে মানুষের মনে তিনটি প্রশ্ন কর তিনটি স্বর্গ ভেঙ্গে পড়বে, মানবিক বুদ্ধি সক্রিয় হয় তবে তো প্রশ্ন করবেই, আর প্রশ্ন করলেই এগুলো ভেঙ্গে পড়বে তাই মানুষ আজ এখানেই সব বিকল্প চাইছে। ড্রিংকস আর ড্রাগসকে আঁকড়ে ধরতে চাইছে। স্বাস্থের জন্য ক্যামিকেল প্রয়োজন খুশি,শান্তির জন্য প্রয়োজন সব কিছুর জন্য ক্যামিক্যাল প্রয়োজন। আমেরিকার ৭০ শতাংশ মানুষ ঔষধের ভরসায় বেঁচে আছে এই গ্রহের সবচেয়ে সমৃদ্ধ দেশ। ব্যক্তি, মানুষ , সমাজ কেন সমৃদ্ধ হতে চায় ১ম কারন পছন্দসই খাবার ও পুষ্টির যোগান, ২য় কারন পছন্দ মত জীবনশৈলী বেছে নেয়া। সমস্ত পছন্দসই খাবার ও জীবনশৈলী বেছে নেয়ার সুযোগ রয়েছে অথচ এই সমাজে ৭০ শতাংশ মানুষ বেচে রয়েছে শুধু ঔষধের ভরসায় এর থেকে এটাই স্পষ্ট যে, আর্থীক উন্নতির মোহে, মানবিক চৈতন্যের বিকাশকে মূলতবী রাখলে, আমাদের সম্পদই সবচেয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। আমরা এখন আর্থীক বিকাশের চৌকাঠে দাড়িয়ে আছি, মানবিক চৈতন্যকে বিকশিত করার পদক্ষেপ এখনই নিতে হবে ব্যক্তি মানুষের চৈতন্য ঠীকভাবে বিকশিত না হয়, তবে ৯০শতাংশ মানুষ ক্যামিকেলের ফাঁদে পড়ছে। নৈতিকতার প্রশ্নে আসছি না, ৯০শতাংশ মানুষ তার পরবর্তী প্রজন্ম আরো কমজোরী হবে। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। বর্তমান প্রজম্ম থেকে আগামি প্রতিটি পজম্ম এক ধাপ এগিয়ে থাকা উচিত। ক্যামিকেলের ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে আমরা তাদের পেছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে, এটাই মানব চেতনাকে বিকশিত করার সময়
তার জন্য আমরা তোমাদের সঙ্গে রয়েছি, কোকেন ছাড়াই তোমাদের চনমনে করে তুলতে.................

0 comments:
Post a Comment